মাছের তেলে দূর হবে পেটের বাড়তি মেদ

7

মাছের তেলের বহু উপকার। এটা অনেকেই জানেন। এবার এ তালিকায় যুক্ত হলো আরেকটি বিষয়। গবেষকরা জানিয়েছেন, এটি পেটের বাড়তি মেদ দূর করতেও সহায়ক। এক প্রতিবেদনে বিষয়টি জানিয়েছে হিন্দুস্তান টাইমস।

পেটের বাড়তি চর্বি দূর করতে মাছের তেল ভূমিকা রাখে এমন তথ্য জানা গেছে জাপানের কিয়োটো ইউনিভার্সিটির গবেষণায়। গবেষকরা জানিয়েছেন, এটি ৩০ ও ৪০ বছর বয়সী মানুষদের পেটের ফ্যাট কমিয়ে ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক ভূমিকা রাখে।

মাছের তেলের এ উপকারিতার মূলে রয়েছে এর হজমকারী শক্তি। এটি নার্ভাস সিস্টেমের সহায়ক হিসেবে ফ্যাট সেলগুলোকে দ্রুত হজম হতে প্রণোদনা দেয়। আর এতেই ধীরে ধীরে কমতে থাকে পেটের ফ্যাট সেলের সংখ্যা।

গবেষকরা জানিয়েছেন, দেহের সব ফ্যাট টিসু চর্বি জমা করে না। তাদের মধ্যে ‘সাদা’ সেল হিসেবে পরিচিত টিসুগুলো এনার্জি সরবরাহ করার জন্য ফ্যাট সংগ্রহ করে এবং বাদামি সেলগুলো ফ্যাট হজম করে দেহের তাপমাত্রা স্বাভাবিক রাখে।

বাদামি সেলগুলো ছোটবেলাতেই পরিত্যক্ত হয় কিন্তু বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কমতে থাকে। অন্য আরেক ধরনের ফ্যাট সেল হলো ধূসর সেল। এটি মানুষ ও ইঁদুরের দেহে পাওয়া যায়। এটি বাদামি সেলের মতোই কাজ করে। মানুষের বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিশেষ করে মধ্যবয়সে বাদামি সেল কমতে থাকে।

গবেষণাপত্রটির সিনিয়র লেখক টেরুও কাওয়াদা বলেন, ‘আগের গবেষণার ভিত্তিতে আমরা জানি, মাছের তেলের অসাধারণ স্বাস্থ্যগত সুবিধা রয়েছে। এতে ফ্যাট আহরণের বিরুদ্ধে উপাদান রয়েছে। আমরা পরীক্ষা করে দেখেছি মাছের তেল ও ধূসর সেলের সম্পর্ক রয়েছে।’

গবেষকরা এ বিষয়টি অনুসন্ধানের জন্য ইঁদুরকে বেছে নেন। এতে তারা ইঁদুরগুলোকে দুই ভাগ করে এক ভাগকে মাছের তেলযুক্ত খাবার দেন এবং অন্য ভাগকে ভিন্ন ধরনের চর্বিসমৃদ্ধ খাবার খেতে দেন। এতে দেখা যায়, যেসব ইঁদুরকে মাছের তেলযুক্ত খাবার খাওয়ানো হয়েছে, সেসব ইঁদুরের ওজন পাঁচ থেকে ১০ শতাংশ কমেছে। অন্যদিকে যেসব ইঁদুরকে অন্যান্য চর্বিসমৃদ্ধ খাবার খেতে দেওয়া হয় সেসব ইঁদুরের দেহের ১৫ থেকে ২৫ শতাংশ ওজন বাড়ে।

গবেষকরা ওজন বৃদ্ধির বিষয়টি গবেষণায় দেখেন মাছের তেলে তাদের শুধু ওজনই কমেনি অন্য সেলগুলোর গুণগত পরিবর্তনও হয়েছে। এতে তাদের পেটের সাদা চর্বির স্থলে ধূসর সেল তৈরি হয়, যার অর্থ পেটের চর্বি ধারণক্ষমতায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসে।