লবণকে ‘না’ বলুন

1

ঝাল তো বটেই, এমনকি মিষ্টি খাবারেও লবণ স্বাদে ভিন্নতা আনে। কিন্তু অতিরিক্ত লবণ যে স্বাস্থ্যহানি ঘটায় সে কথা আমরা সবাই জানি। তবুও এখানে লবণ সম্পর্কে কিছু তথ্য তুলে ধরেছেন বিশেষজ্ঞরা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রয়োজনের অধিক লবণ উচ্চ রক্তচাপ এবং হার্ট ফেউলুওরের অন্যতম কারণ। এ বিষয়ে অনেক কার্ডিওলজিস্ট মত দেন যে, হৃদযন্ত্র যখন পর্যাপ্ত রক্ত পাম্প করে দেহে ছড়িয়ে দিতে পারে না তখন হার্ট ফেউলুওরের ঘটনা ঘটে। খাবার লবণের সোডিয়াম পানি শুষে নেয়। কাজেই বাড়তি লবণ দেহের বাড়তি পানি শুষে নেয়। ফলে রক্তে পানির পরিমাণ কমে যায়। এতে করে হৃৎপিণ্ডে বাড়তি চাপ পড়ে এবং হার্ট ফেউলুওরের ঘটনা ঘটে থাকে।

লবণ গ্রহণের সঠিক মাত্রা
এটা জানা প্রত্যেক মানুষের জন্যে অতি জরুরি। বিশেষজ্ঞরা স্পষ্টভাবে বলেন, যদি হৃদযন্ত্র নানা সমস্যায় ভুগতে থাকে, তবে দিনে একজন মানুষের ২-৩ গ্রামের কম লবণ খেতে হবে। এর বেশি নয়। যারা হাইপারটেনশনে ভুগছেন, তাদের অবশ্যই ৫ গ্রামের কম লবণ খেতে হবে।

দেহের দরকার সোডিয়াম
এটি একটি খনিজ যা জীবন পরিচালনের জন্য দরকার। দেহে তরলের ভারসাম্য বজায় রাখে সোডিয়াম। পেশির কার্যক্রম এবং স্নায়বিক কাজ সুষ্ঠুভাবে চালানোর কাজেও সহায়তা করে এটি। লবণ খাওয়া যখন দেহের জন্যে প্রয়োজনীয়, তখন যা দরকার তার চেয়ে অনেক বেশি লবণ খেয়ে থাকি আমরা। কিন্তু এতে রক্তচাপে গড়বড় দেখা দেয়। রক্তচাপ বেড়ে যায়। আর উচ্চ রক্তচাপ হার্ট অ্যাটাক এবং হার্ট ফেউলুওরের পেছনে শক্তিশালী ভূমিকা রাখে।

উচ্চমাত্রার সোডিয়ামপূর্ণ খাবার
আধুনিক যুগে মানুষ না খেয়েই থাকতে চায়। কিংবা প্রক্রিয়াজাত খাবার খেতে পছন্দ করে। অনেকেই জানেন না, প্রক্রিয়াজাত খাবার থেকে ৭৭ শতাংশ লবণ আসে দেহে। তাই এসব খাবার কেনার আগে তার গায়ে সোডিয়ামের পরিমাণ জেনে নেওয়াটা জরুরি। যা দরকার তার চেয়ে বেশি খাওয়ার বিপদ তো জানেনই। আগে থেকেই তৈরি করা অবস্থায় পেয়েছেন এমন খাবারই লবণে ভরপুর থাকে। প্যাকেটজাত খাবারের বিষয়ে তাই সাবধান! ভাজা-পোড়ার সঙ্গে বাড়তি সস খাবেন না। প্রিয় আঁচারেও কিন্তু লবণ থাকে বেশি।

কিছু প্যাকেটজাত খাবারের কথা বলা হলো। এগুলোতে অনেক বেশি লবণ থাকে। জেনে নিন-

কটেজ চিজ : অনেকের কাছে প্রিয় খাবার। এর এক কাপে ১০০০ মিলিগ্রাম লবণ তাকে। তাই এই পরিমাণ চিজ প্রয়োজনের ৪০ শতাংশই আপনাকে সরবরাহ করতে সক্ষম। তাই হিসেবটা সাবধানে করবেন।

বেকড খাবার : যে মজার খাবারগুলো বেক করা হয় সেগুলো সাধারণ মিষ্টি ও সোডিয়ামে পূর্ণ থাকে। এখানে সোডিয়াম আসলে প্রিজারভেটিভ হিসেবেই দেওয়া হয়। এ ধরনের খাবার থেকে ২০০ মিলিগ্রাম লবণ আসতে পারে।

স্যুপ : মজাড়ার স্যুপও কিন্তু প্রচুর সোডিয়াম থাকে। সাধারণ যে পরিমাণ স্যুপ রেস্টুরেন্ট একজনকে দেওয়া হয় তাতে ১০০০-১৫০০ মিলিগ্রাম সোডিয়াম মিলে যেতে পারে।

বার্গার ও হট ডগ : জাঙ্ক ফুড লবণের ঘাঁটি। একটা থেকেই মিলবে ৫০০ মিলিগ্রাম লবণ।

প্যাকেটজাত মুরগির মাংস : অনেক সময়ই এর বুকের মাংসে উচ্চ মাত্রার সোডিয়াম সলুশন ইনজেকশন করা হয়।

মনে রাখবেন
১. বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা একজন প্রাপ্তবয়স্কের দিনে সর্বোচ্চ ৫ গ্রাম লবণ নির্দিষ্ট করে দিয়েছে। এটা মোটামুটি এক টেবিল চামচের সমপরিমাণ।

২. আমাদের দৈনিক খাবারে সোডিয়াম ক্লোরাইড প্রধান উৎস। যে লবণ বাজার থেকে কিনে আনেন এটা তা-ই। এতে ৪০ শতাংশ সোডিয়াম এবং ৬০ শতাংশ ক্লোরাইড থাকে।

৩. কার্ডিওলজিস্টরা বলেন, যদি কারো উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা নাও থাকে, কম পরিমাণ সোডিয়াম রক্তচাপ বেড়ে যাওয়াকে আটকাতে পারে। এটা সাধারণত বয়সের সঙ্গে ঘটতে থাকে। এতে হার্ট অ্যাটাক এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি হ্রাস পায়।

৪. বাড়তি লবণ দেহের পানি শুষে নিতে পারে। আবার এই বাড়তি পানি ওজন বৃদ্ধির কারণ হতে পারে।