সম্পর্ক ঠিক রাখতে কী করবেন?

140
প্রতীকী ছবি

দুজন মানুষই জানে, তারা কে কাকে কতখানি বোঝে ও বুঝাতে সক্ষম। একে অপরের সাথে খুব কাছাকাছি হবার পর দুজনেই জানে কিভাবে সামনে যাওয়া যায় মসৃণ পথে। কেবল প্রয়োজন ওই একটু ছাড় দেবার মানসিকতাই। কী করবেন?

১. একে অপরের প্রতি খুশিকরণ প্রকল্পের বাইরে গিয়ে স্বতঃস্ফূর্ত শ্রদ্ধাবোধ।

২. অলিখিত প্রতিশ্রুতি রক্ষার্থে নিজ অবস্থানে সততা।

৩. শখ করে বা পরিস্থিতির শিকার হয়ে মিথ্যের আশ্রয় না নিয়ে নির্ভরতার জায়গা থেকে সত্য কথাটা বলে দেয়া।

৪. রাগ হলেই যোগাযোগ বন্ধ না করে স্বাভাবিক থাকার প্রাণান্তকর চেষ্টায় সফল হওয়া।

৫. রাগ হয়েছে অথবা ক্ষোভ জন্মেছে, এই ব্যাপারটা কেউ কাউকে বুঝতে না দিয়ে বরফ গলে যাবার অনিন্দ্য মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করা।

৬. কখনও অস্বস্তিকর কথা প্রাসঙ্গিক হয়ে গেলে, সে কথার ধারেকাছে না গিয়ে নিজেদের সুন্দর কোনও মুহূর্ত বা প্রত্যাশা নিয়ে কথায় ডুবে যাওয়া।

৭. যাবতীয় ইতিবাচক ব্যাপারে নিজেদের যতখানি সম্ভব ডুবিয়ে রাখা।

এসব কথা অনেক শোনা যায় কিন্তু কাজের সময় অধিকাংশই ঠনঠনে। আমাদের যাপিত জীবনে আজকাল সব জায়গায় অস্থিরতা। দ্রুত সমাধানের খায়েশ আমাদেরকে দিন দিন একেবারে অতিষ্ঠ হয়ে যাওয়া সম্পর্কের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। হিসেব করলে দেখা যাবে, আমাদের দেশে কমবেশি প্রায় সকলেই মানসিক রোগী। কেউ সারা পৃথিবীর সব জায়গায় সুস্থ থাকলেও একান্ত যে আশ্রয়, ঠিক সেই জায়গায় এসে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলা কেউ। সব জায়গায় ব্যক্তিত্ব সচেতন থাকলেও নিজেদের সম্পর্কের জায়গায় অতি ব্যক্তিত্ব অথবা একেবারেই ব্যক্তিত্বহীন আচরণে ব্যাপক পারদর্শী। এসব নিয়ে এখন আর গবেষণা করতে হয় না। চারপাশে তাকালেই স্পষ্ট হয়ে যায়। আরও স্পষ্ট হয় নিজের দিকে তাকালে, নিজেদের দিকে তাকালে।

দেশে সবচেয়ে সস্তা হয়ে যাওয়া বিষয় হচ্ছে ‘ব্রেকআপ’ ও ‘ডিভোর্স’। সম্পর্ক হতে না হতেই ব্রেকআপ। রেগে যেতেই যোগাযোগ বন্ধ। একদিন না যেতেই মুখ দেখাও বন্ধ। তারপর কেউ কাউকেই চেনে না। মনে করতে পারে না সুন্দর কোনও মুহূর্তের কথাও। বিয়ে করে অল্প কয়েকদিন চলতে গিয়েই একে অপরকে এত বেশি চিনে ফেলে যে, সোজা সিদ্ধান্ত ‘আর সম্ভব না, এখনই ডিভোর্স প্রয়োজন’। কেউ একজন ব্যাপারটা নিয়ে সিরিয়াস হয়ে গেলেই কাজ সম্পন্ন। এই যে ব্রেকআপ আর ডিভোর্স, এ থেকে দুজন মানুষ যখন দুদিকে গিয়ে বাঁচতে চায়, কী পায়? কতখানি পায়?

একজন আরেকজনে খুব ভালো চেনে। তবুও কিছু হতেই যখন কেউ একজন বলে বসে ‘আমাদের এই ব্যাপারটা নিয়ে বসতে হবে’ অথবা ‘অবস্থা সম্ভবত আমাদের নিয়ন্ত্রণে নেই আর, আমাদের একটা সিদ্ধান্তে যাওয়া জরুরী’। এই যে বসতে চাওয়া, কার সাথে বসতে হবে? কে কাকে নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবে? এই বসতে চাওয়ার এবং সিদ্ধান্ত নেবার ভাবনা ভাবতে অনুরোধগুলোই অসংখ্য সম্পর্ক মরে যাওয়ার জন্য দায়ী। সম্পর্কটা দুজনের। একজন আরেকজনকে পছন্দ করে প্রথম ইশারা দিয়েছে, বাকিজন সায় দিয়েছে। এক থেকে দুই হয়েছে। দুই থেকে এসে এক হয়ে একাকার হয়ে গেছে। এখানে বসার তো কিছু নেই। এখানে সিদ্ধান্ত নেবার কিছু নেই। ভালোবাসার চেয়ে বড় শক্তি তো আর নেই পৃথিবীতে।