সম্পর্ক ভাঙার সাত কারণ

1

অনেকসময় দেখা যায় বহুদিনের সম্পর্ক হঠাৎই একদিনে শেষ হয়ে গেল। যারা একে অপরকে ছাড়া থাকতে পারত না তাঁরাই তখন মাসের পর মাস কথা না বলে কাটিয়ে দেয়। সম্পর্ক ভাঙার পিছনে কিন্তু দায়ী কয়েকটি কারণ। নারী-পুরুষের প্রেম বা বন্ধুত্বের সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার কিছু সাধারণ সূত্র আছে। কী করা যাবে এবং কী করা যাবে না, সে বিষয়ে তালিকাও আছে।

বিশ্বাসহীনতা
সুস্থ সম্পর্কের চাবিকাঠি বিশ্বাস। বিশ্বস্ত পরিবেশ তৈরি করুন। সে কার সঙ্গে আছে, কার সঙ্গে কথা বলছে এসব নিয়ে যদি আপনাকে ক্রমাগত ভাবতে হয়, তবে সম্পর্ক বিষয়ে নতুন করে চিন্তা করতে হবে। এভাবে ভাবনায় ডুবতে ডুবতে এগোতে থাকলে আপনি কাজি অফিস পর্যন্ত পেঁৗছাতে পারবেন না।

নিজের দোষ তুলে ধরা
বস আপনাকে ঘৃণা করে, বন্ধুরা হিংসা করে, মা-বাবা কোনো দাম দেন না, আপনি মোটা ইত্যাদি নিয়ে বেশি আলোচনা করবেন না। নিজের সব দুর্বলতার কথা সঙ্গীর কাছে প্রকাশ না করাই ভালো। কোনো সঙ্গীই এসব বিষয় শুনতে পছন্দ করে না।

দমবন্ধ পরিস্থিতি
সম্পর্কে কখনো দমবন্ধ পরিস্থিতি তৈরি করবেন না। এমন কাউকে যদি খুঁজে পান যার সঙ্গে আরো বেশি মিলছে তবে তাকেই বেছে নিন। আপনি যদি অন্য কারো সঙ্গে নতুন সম্পর্কে জড়িয়ে যান, তাহলে পুরনো সম্পর্ক থেকে পিছিয়ে আসাই ভালো। এ নিয়ে সঙ্গীর সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা করাই বুদ্ধিমানের কাজ। মাথায় রাখতে হবে, এমনটা শুধু আপনার নিজের বেলায় নয়, আপনার সঙ্গীও নতুন কাউকে পছন্দ করে সরে যেতে পারে।

খুঁতখুঁতে স্বভাব
খুঁতখুঁতে স্বভাব যেকোনো সম্পর্কের ক্ষেত্রে রেড অ্যালার্মের মতো কাজ করে। আপনি যদি সব কিছুতেই খুঁত বের করেন তাহলে সেটি হতে পারে সম্পর্ক ভাঙার কারণ। সঙ্গীর পোশাক-আশাক, কথাবার্তা কিংবা দৈনন্দিন নানা বিষয়ে সমালোচনা করতে থাকলে এবং খুঁত খুঁজতে থাকলে তার মনে হতে পারে তার উপস্থিতি আপনার সহ্য হচ্ছে না। তিনি সরে যাওয়ার প্রয়োজন বোধ করতে পারেন। সঙ্গীর অনেক কিছুই হয়তো আপনার মনের মতো নয়। তার মানে এই নয় যে তার সব বিষয়ে পরিবর্তন আনার অধিকার আপনার আছে। অপছন্দের যে লোকদের সঙ্গে তিনি মেশেন তাদের দূরে সরানো কিংবা ভিডিও গেম বন্ধ করা- এসব বিষয়ে চাপ না দেওয়াই ভালো। মনে রাখবেন, সব বিষয়ে বিরক্ত করলে সম্পর্ক টিকবে না।

কাজপাগল স্বভাব
চাকরি বা কাজ নিঃসন্দেহে আপনার কাছে গুরুত্বপূর্ণ। তবে জীবনের সব কিছুর মধ্যমণি হিসেবে কাজকে রাখবেন না। আপনার চাকরি বা কাজে বন্ধুর জরুরি সাহায্য দরকার না হলে এ বিষয়ে বেশি আলোচনা না করাই ভালো। কাজের জন্য কোনো গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠান মিস করা বা সঙ্গীর সঙ্গে থাকার সময়েও অফিসের কাজে ব্যস্ত থাকা নিঃসন্দেহে বিরক্তিকর। এতে সঙ্গীর মনে হতে পারে আপনার কাছে তার চেয়ে কাজই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এ জন্য পরামর্শ হচ্ছে, কাজের সময় কাজ এবং এক সঙ্গে থাকলে তাকেই গুরুত্ব দিন।

তাড়াহুড়া
কারো সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ শুরুর সঙ্গে সঙ্গে তাকে বিয়ের জন্য প্রস্তাব দিতে যাবেন না। অপেক্ষা করুন। স্রোতে ভেসে বেড়ানোর চেষ্টা করুন। পরিচয়ের পরের দিনই আপনার মা-বাবার সঙ্গে তাকে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করবেন না। আগে আপনার মতামত তাকে জানান, তার মতামত জানুন। সে যদি আগ্রহী হয়, সব কিছু যদি ঠিক থাকে তাহলেই কেবল অগ্রসর হোন।

অতিরিক্ত ছেলেমানুষি
আয়নার সামনে দাঁড়ালে আপনি দারুণ আকর্ষণীয় একজন মানুষ। কিন্তু নিজের আকর্ষণীয় দিকগুলোর কথা প্রতিনিয়ত নতুন সঙ্গীকে বলতে যাবেন না। এতে সে বিগড়ে যেতে পারে। আপনার সব গুণের কথা একসঙ্গে না জানিয়ে ভবিষ্যতের জন্য কিছু জমিয়ে রাখুন।