বনজুঁই বা ভাট ফুল

854

বসন্ত ঋতুতে মাঠে প্রান্তরে যে ফুলগুলো সহজেই নজর কেড়ে নিচ্ছে তার অন্যতম হলো বনজুঁই। এই ফুল ভাট ফুল নামেই পরিচিত।

ভাট পুষ্প বাংলাদেশের মানুষের একেবারে চোখের সামনে থাকা ফুল। মুলতঃ এটি বুনো ফুল। ঋতুরাজ বসন্তে দেখা যায় এই ফুল। ঝোপ-ঝারে, জঙ্গলে, রাস্তার ধারে, এখানে সেখানে নিজের সুন্দর রূপ ছড়িয়ে থাকে ভাট ফুল বা বন জুঁই। এটি ভাইটা ফুল, ঘেটু ফুল, ভাত ফুল, ঘণ্টাকর্ণ নামেও পরিচিত। একে বলা হয় হিল গ্লোরি বোয়ার (hill glory bower)। এর বৈজ্ঞানিক নাম ক্লেরোডেনড্রাম ভিসকোসাম (Clerodendrum viscosum). ভারবেনাসেই (Verbenaceae) গণের এই ফুল ল্যামিয়াসেই (Lamiaceae) পরিবারভুক্ত। এটি ইনফরচুনাটাম (Infortunatum) প্রজাতির এবং বাংলাদেশের আদি ফুল।

বাংলাদেশের মাটিতে এই ফুলের গাছ অত্যন্ত অনাদর আর অবহেলায় জন্মে এবং বেড়ে ওঠে। গাছ গুল্ম জাতীয়; ছোট আকৃতির ও বেশ ঝোপালো হয়। সবুজ বহুপত্রী ভাট গাছের ফুল ধবধবে সাদা। ফুল ফোটে থোকায় থোকায়। দেশের সর্বত্রই দেখা যায় এই ফুল। তবে ভাওয়াল গড় ও মধুপুর গড় এলাকায় ভাট গাছ প্রচুর জন্মায় এবং ফুলে ফুলে একেবারে ছেয়ে থাকে।

ভাট ফুলের পাপড়ি পাঁচটি এবং পাপড়ির গোড়ার দিকটা হালকা বেগুনি রঙের। প্রতি ফুলে ৪টি করে পুংকেশর সামনের দিকে বেরিয়ে আসে। পুংকেশরের অগ্রভাগ হয় স্ফীত ও কালো। রাতে বেশ গন্ধ ছড়ায় এই ফুল।