চর্মরোগের ওষুধ কাঠগোলাপ

2315

কাঠগোলাপের বৈজ্ঞানিক নাম Plumeria obtusa। এর গণের নামকরণ করা হয়েছে ফরাসী উদ্ভিদবিদ শার্ল প্লুমিয়ে-র নামানুসারে। প্লুমেরিয়া গণের ফুলগুলিকে ইংরেজিতে সাধারণভাবে Frangipani ডাকা হয়। এর নিকটাত্মীয় করবী বা ওলেয়ান্ডার। কাঠগোলাপ মেক্সিকো, মধ্য আমেরিকা, ভেনেজুয়েলা ও দক্ষিণ ভারতের স্থানীয় ফুল।

কাঠগোলাপের রং হতে পারে সাদা, হলুদ বা গোলাপী। বর্তমানে বিষুবীয় অঞ্চলের প্রায় সব জায়গাতেই কাঠগোলাপ দেখা যায়।

কাঠগোলাপের গাছ ঝোপ আকৃতির, এবং পরিস্থিতিভেদে কয়েক মিটার উঁচু হতে পারে। গাছে পাতা গজানোর আগেই ফুল ফুটতে পারে। এর পাতাগুলো ডালের শেষপ্রান্তে গুচ্ছবদ্ধ হয়ে থাকে, পাতা ঝরার পর ডালে একটি চিহ্ণ রয়ে যায়।

এই ফুল সারা বছর ধরে ফোটে, বসন্তে কিছু বেশি ফোটে। এর ডালগুলি রসালো, এবং ডালের রস বিষাক্ত। এর গন্ধ রাতে তীব্রতা লাভ করে। কাঠগোলাপে কোন মধু নেই, গন্ধে আকৃষ্ট হয়ে পতঙ্গ এর পরাগায়ন ঘটায়। কলম করে কাঠগোলাপের বংশবিস্তার সম্ভব।

কাঠগোলাপ গাছ আকারে মাঝারি, উচ্চতা সাধারণত ১২ থেকে ৩০ ফুট। নরম, ভঙ্গুর শাখা-প্রশাখা ছড়ানো-ছিটানো, দুধকষভরা। পাতা কিছুটা বড় ও লম্বা। পাঁচটি ছড়ানো পাপড়ির ফুলগুলো পাঁচ থেকে আট ইঞ্চি চওড়া। পাপড়ির কেন্দ্রে কিছুটা হলদে বা কমলা রঙের ছোঁয়া থাকে। ফুলের পাশাপাশি এর পাতার বিন্যাসের সৌন্দর্যও দৃষ্টি কাড়ে। এ গাছের নানা অংশের ঔষধি ব্যবহার রয়েছে। নারকেল তেলের সঙ্গে এর কষ চর্মরোগের ওষুধ হিসেবে কাজ করে। এর ফুল হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কাছে পবিত্রতার উৎস, পূজার উপকরণ। বৌদ্ধরা ভাবে, এটি মৃত্যুহীন প্রাণের প্রতীক।